ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ক্যালকুলেটর ও অনলাইনে পরিশোধের নিয়ম ২০২৬

ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ক্যালকুলেটর 

আপনার জমির কত টাকা খাজনা দিতে হবে হিসাব করুন, আর ঘরে বসে অনলাইনে পরিশোধের সম্পূর্ণ পদ্ধতি জানুন

প্রতি শতাংশ হার (প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন):
আনুমানিক বার্ষিক খাজনা
মূল কর-
দাখিলা/রেকর্ড ফি-
সর্বমোট বার্ষিক পরিশোধযোগ্য-

কৃষি জমির খাজনার হার (২০২৬)

ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক কৃষি জমির ক্ষেত্রে:

  • ৮.২৫ একর (২৫ বিঘা) পর্যন্ত — সম্পূর্ণ মওকুফ (শুধু ১০ টাকা দাখিলা ফি)
  • ৮.২৫ একর থেকে ১০ একর পর্যন্ত — প্রতি শতাংশ ০.৫০ টাকা
  • ১০ একরের বেশি — প্রতি শতাংশ ১ টাকা
  • চা/রাবার/কফি/ফুল-ফলের বাগান, বাণিজ্যিক মৎস্য/চিংড়ি চাষ, হাঁস-মুরগি/গবাদি পশুর খামার — জমির পরিমাণ যাই হোক, প্রতি শতাংশ ফ্ল্যাট ২ টাকা (কোনো মওকুফ নেই)

অকৃষি জমির খাজনার হার (প্রতি শতাংশ, টাকায়)

এলাকাআবাসিক ও অন্যান্যবাণিজ্যিক/শিল্প
ঢাকা/চট্টগ্রাম/নারায়ণগঞ্জ/গাজীপুর/সিলেট সিটি কর্পোরেশন22125
জেলা সদর পৌরসভা722
অন্যান্য পৌরসভা এলাকা617
গ্রামীণ এলাকা (পাকা বাড়ি)515

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ধাপ

  1. ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটে যান
    মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করুন।
  2. হোল্ডিং যাচাই করুন
    মৌজা, খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর দিয়ে আপনার জমির হোল্ডিং খুঁজে বের করুন। আগে থেকে হোল্ডিং তৈরি না থাকলে নতুন হোল্ডিং রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
  3. বকেয়া ও চলতি বছরের কর দেখুন
    সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া ও চলতি অর্থবছরের কর হিসাব করে দেখাবে।
  4. অনলাইনে পরিশোধ করুন
    মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) বা কার্ড দিয়ে সরাসরি পরিশোধ করা যায়। সর্বোচ্চ তিন বছরের অগ্রিম কর একসাথে পরিশোধ করা যায়।
  5. ই-দাখিলা ডাউনলোড করুন
    পরিশোধ সম্পন্ন হলে QR কোডযুক্ত ডিজিটাল দাখিলা (রসিদ) ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন — এটাই আপনার পরিশোধের প্রমাণ।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

কত একর পর্যন্ত কৃষি জমিতে খাজনা লাগে না?
ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক কৃষি জমির পরিমাণ ৮.২৫ একর (২৫ বিঘা) পর্যন্ত হলে কোনো ভূমি উন্নয়ন কর লাগে না, শুধু বার্ষিক ১০ টাকা দাখিলা ফি প্রযোজ্য।
আবাসিক ও বাণিজ্যিক জমির খাজনার হারে পার্থক্য কতটা?
এলাকাভেদে ভিন্ন হলেও সাধারণত বাণিজ্যিক জমির হার আবাসিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি হয়ে থাকে।
ভূমি উন্নয়ন কর কি সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিশোধ করা যায়?
হ্যাঁ, ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড দিয়ে ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়, এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের অগ্রিম কর একসাথে দেওয়া যায়।
নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবহারে (যেমন চা বাগান) কি জমি কম থাকলেও কর দিতে হয়?
হ্যাঁ, চা/রাবার/কফি/ফুল-ফলের বাগান বা বাণিজ্যিক মৎস্য/চিংড়ি চাষ, হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশুর খামারের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ যত কমই হোক, ২৫ বিঘার মওকুফ প্রযোজ্য হয় না — সম্পূর্ণ জমির উপর প্রতি শতাংশ ২ টাকা হারে কর দিতে হয়।
খাজনা না দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
খাজনা বকেয়া থাকলে জমি বিক্রি, নামজারি বা ব্যাংক লোনের জন্য প্রয়োজনীয় হালনাগাদ দাখিলা পাওয়া যায় না, এবং সরকার বকেয়ার জন্য নোটিশও পাঠাতে পারে।
ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা কত টাকা?
এটা জমির ধরন (কৃষি/অকৃষি), এলাকা (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/গ্রাম) এবং ব্যবহার (আবাসিক/বাণিজ্যিক) অনুযায়ী ভিন্ন হয় — উপরের ক্যালকুলেটরে নিজের তথ্য দিয়ে সঠিক অঙ্কটা বের করে নিন।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ (দাখিলা) কীভাবে ডাউনলোড করব?
ldtax.gov.bd-এ অনলাইনে পরিশোধ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই QR কোডযুক্ত ডিজিটাল দাখিলা (রশিদ) আপনার প্রোফাইল বা পেমেন্ট হিস্ট্রি থেকে সরাসরি ডাউনলোড করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এলাকাভেদে (ইউনিয়ন/পৌরসভা) খাজনার প্রকৃত হার এখানে দেখানো সাধারণ হারের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হতে পারে, কারণ স্থানীয় পরিষদ কিছুটা সমন্বয় করতে পারে। উপরের ইনপুট বক্সে সঠিক স্থানীয় হার বসিয়ে নিজে হিসাব করে নিতে পারবেন। চূড়ান্ত পরিশোধের আগে ldtax.gov.bd বা স্থানীয় ভূমি অফিসে যাচাই করে নিন।

তথ্যসূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন (৩০ জুন ২০১৫), ভূমি উন্নয়ন কর আইন ২০২৩, ldtax.gov.bd এবং একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের প্রকাশিত হার অনুযায়ী।

ইট, সিমেন্ট ও বালুর হিসাব ক্যালকুলেটর — নির্মাণ খরচসহ (২০২৬)

ইট, সিমেন্ট ও বালুর হিসাব ক্যালকুলেটর

দেয়ালের মাপ দিন, প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীর পরিমাণ ও আনুমানিক খরচ জানুন

দাম বসিয়ে টাকায় খরচ জানুন (ঐচ্ছিক):
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ইট লাগবে: -
সিমেন্ট লাগবে: -
বালু লাগবে: -
আনুমানিক মোট খরচ
ইটের খরচ-
সিমেন্টের খরচ-
বালুর খরচ-
সর্বমোট খরচ-

দ্রুত রেফারেন্স: সাধারণ দেয়ালের হিসাব (১০ ফুট উচ্চতা ধরে)

দেয়ালের দৈর্ঘ্য ইট (৫" দেয়াল) ইট (১০" দেয়াল) সিমেন্ট (৫", ব্যাগ) সিমেন্ট (১০", ব্যাগ)

গাথুনির ইট, সিমেন্ট ও বালুর হিসাব কীভাবে করবেন?

বাড়ির দেয়াল তৈরি করার আগে কতগুলো ইট, সিমেন্ট এবং বালু লাগবে তা সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক হিসাব না জানা থাকলে নির্মাণ সামগ্রী অপচয় হতে পারে অথবা কাজের মাঝে মালামাল ঘাটতি পড়তে পারে। আমাদের এই কনস্ট্রাকশন ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করে আপনি মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই দেয়ালের সঠিক হিসাব এবং আনুমানিক খরচ বের করতে পারবেন।

গাথুনির নিয়ম ও হিসাবের সূত্র:

  • ৩ ইঞ্চি গাথুনি — হালকা পার্টিশন দেয়ালের জন্য ব্যবহৃত হয়, প্রতি বর্গফুটে গড়ে আনুমানিক ২.৫টি ইট লাগে।
  • ৫ ইঞ্চি গাথুনি — সাধারণ অভ্যন্তরীণ দেয়ালের জন্য প্রতি বর্গফুটে গড়ে ৫টি ইট প্রয়োজন হয়।
  • ১০ ইঞ্চি গাথুনি — সীমানা প্রাচীর বা মূল লোড-বেয়ারিং দেয়ালের জন্য প্রতি বর্গফুটে গড়ে ১০টি ইট হিসাব করা হয়, এবং মসলার পরিমাণও ৫ ইঞ্চির প্রায় দ্বিগুণ লাগে।
  • মসলার অনুপাত — সাধারণত ১:৬ অনুপাতে সিমেন্ট-বালু ব্যবহার করা হয়, যেখান থেকে প্রতি বর্গফুট গাথুনির জন্য প্রয়োজনীয় সিমেন্ট ও বালুর পরিমাণ নির্ণয় করা হয়েছে।

ক্যালকুলেটরটি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. দেয়ালের মোট দৈর্ঘ্য (ফুট) ও উচ্চতা (ফুট) লিখুন।
  2. দেয়ালটি ৩, ৫ নাকি ১০ ইঞ্চি তা ড্রপডাউন থেকে নির্বাচন করুন।
  3. চাইলে ইট, সিমেন্ট ও বালুর বর্তমান বাজার দর বসিয়ে দিন — সাথে সাথে আনুমানিক টাকার খরচও দেখাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১ বর্গফুট ৫ ইঞ্চি দেয়ালে কতগুলো ইট লাগে?
সাধারণত ১ বর্গফুট ৫ ইঞ্চি গাথুনিতে আনুমানিক ৫টি ইট লাগে।
১০ ইঞ্চি দেয়ালে কি ৫ ইঞ্চি দেয়ালের ঠিক দ্বিগুণ উপকরণ লাগে?
ইটের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ লাগে, এবং যেহেতু জোড়া গাথুনিতে মসলার পরিমাণও বাড়ে, তাই সিমেন্ট ও বালুও প্রায় দ্বিগুণ হিসাব করা হয়।
এই হিসাব কি সবসময় নির্ভুল হবে?
এটি একটি প্রচলিত আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত পরিমাণ ইটের সাইজ, মসলার অনুপাত ও রাজমিস্ত্রির কাজের ধরনের উপর কিছুটা নির্ভর করতে পারে।
১:৬ অনুপাত ছাড়া অন্য অনুপাত ব্যবহার করলে কী পরিবর্তন হবে?
১:৪ বা ১:৫ অনুপাতে সিমেন্টের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে এবং বালুর পরিমাণ কিছুটা কমবে, তবে ইটের সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হবে না।

জমি পরিমাপ কনভার্টার — শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একর রূপান্তর (২০২৬)

জমি পরিমাপ কনভার্টার

শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একর, গণ্ডা, কানি ও বর্গফুট সহ ১২টি এককে নির্ভুল রূপান্তর

সমপরিমাণ রূপান্তরিত মান
শতাংশ / শতক: -
কাঠা: -
বিঘা: -
একর: -
হেক্টর: -
বর্গফুট: -
বর্গগজ: -
বর্গমিটার: -
গণ্ডা: -
কানি: -
কড়া: -
ছটাক: -

দ্রুত রেফারেন্স: সাধারণ পরিমাপের রূপান্তর তালিকা

নিচের তালিকায় সচরাচর ব্যবহৃত জমির পরিমাণ শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একর ও বর্গফুটে দেখানো হলো।

শতাংশ কাঠা বিঘা একর বর্গফুট

জমি পরিমাপ এবং এককের গুরুত্ব

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জমি কেনাবেচা, সীমানা নির্ধারণ ও দলিলের হিসাব-নিকাশে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও আন্তর্জাতিক একক ব্যবহার করা হয়। শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একরের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণ্ডা, কানি, কড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী এককও প্রচলিত।

বাংলাদেশে প্রচলিত জমির একক ও বর্গফুটের হিসাব:

UnitSq. Feet
1 শতাংশ / শতক435.60
1 কাঠা720.00
1 বিঘা14,400
1 একর43,560
1 হেক্টর107,639
1 গণ্ডা864
1 কানি17,280
1 ছটাক45

জমি মাপার সহজ নিয়ম ও সূত্র:

জমি সাধারণত আয়তাকার বা সামান্তরিক আকৃতির হয়। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মেপে ক্ষেত্রফল বের করার সাধারণ সূত্র হলো:

  • মোট ক্ষেত্রফল (বর্গফুট) = দৈর্ঘ্য (ফুট) × প্রস্থ (ফুট)
  • প্রাপ্ত বর্গফুটকে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে মোট শতাংশ পাওয়া যাবে।
  • প্রাপ্ত বর্গফুটকে ৭২০ দিয়ে ভাগ করলে মোট কাঠা পাওয়া যাবে।

আঞ্চলিক ভিন্নতা সম্পর্কে সতর্কতা:

সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে গণ্ডা-কানি-কড়ার প্রকৃত মান স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী সামান্য ভিন্ন হতে পারে (এখানে ১ গণ্ডা ≈ ৮৬৪ বর্গফুট ধরা হয়েছে)। চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা সার্ভেয়ারের সাথে যাচাই করে নিন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. সরাসরি একক রূপান্তরের জন্য প্রথম ট্যাব নির্বাচন করুন, পরিমাণ লিখে একক বেছে নিন।
  2. জমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জানা থাকলে দ্বিতীয় ট্যাবে গিয়ে দুটি মাপ লিখুন।
  3. ফলাফল বক্সের পাশের বাটনে চাপ দিয়ে পুরো হিসাব কপি করে নিতে পারবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১ শতাংশ জমি সমান কত বর্গফুট?
১ শতাংশ (শতক) জমি সমান ৪৩৫.৬ বর্গফুট।
১ বিঘা সমান কত কাঠা এবং কত শতাংশ?
১ বিঘা সমান ২০ কাঠা, যা প্রায় ৩৩ শতাংশের সমান।
১ একর সমান কত শতাংশ ও কত বিঘা?
১ একর সমান ১০০ শতাংশ, যা প্রায় ৩ বিঘা ৮ কাঠার সমান।
১ কানি সমান কত গণ্ডা ও কত বর্গফুট?
১ কানি সমান ২০ গণ্ডা, আনুমানিক ১৭,২৮০ বর্গফুট। এলাকাভেদে এই মান সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
কাঠা ও শতাংশের মধ্যে পার্থক্য কী?
কাঠা মূলত শহরাঞ্চলে এবং শতাংশ সারাদেশে ও কৃষি জমিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। ১ কাঠা প্রায় ১.৬৫ শতাংশের সমান।

জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ ক্যালকুলেটর — রেজিস্ট্রেশন খরচসহ (২০২৬)

জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ ক্যালকুলেটর

সাফ কবলা (ক্রয়-বিক্রয়) দলিলের রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর ও উৎসে কর হিসাব করুন

হারসমূহ (প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন):
আনুমানিক মোট রেজিস্ট্রেশন খরচ
রেজিস্ট্রেশন ফি-
স্ট্যাম্প শুল্ক-
স্থানীয় সরকার কর-
উৎসে কর (৫৩এইচ)-
ই-ফি-
এন ফি (নকল/অনুলিপি)-
এনএন ফি (নকলনবিশ পারিশ্রমিক)-
হলফনামা স্ট্যাম্প-
কোর্ট ফি (এল.টি নোটিশ)-
সর্বমোট আনুমানিক খরচ-
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: উপরের ডিফল্ট হারগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সরকারি প্রকাশনা থেকে নেওয়া (রেজিস্ট্রেশন ফি ১%, স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫%, স্থানীয় সরকার কর ৩%)। বিশেষত উৎসে কর (৫৩এইচ) এর হার প্রতি অর্থবছরের বাজেটে পরিবর্তিত হয় এবং এলাকা ও মৌজাভেদে ভিন্ন হতে পারে। চূড়ান্ত হিসাবের আগে অবশ্যই আপনার সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা rd.gov.bd থেকে হালনাগাদ হার যাচাই করে নিন। উপরের ইনপুট বক্সে সঠিক/হালনাগাদ হার বসিয়ে নিজে হিসাব করে নিতে পারবেন।

জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ কীভাবে হিসাব হয়?

বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের সময় দলিলে লিখিত মূল্যের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি খাতে খরচ পরিশোধ করতে হয় — রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর এবং উৎসে আয়কর (৫৩এইচ ধারা)। এছাড়া ই-ফি, এন ফি, এনএন ফি-র মতো ছোট কিছু নির্দিষ্ট (ফ্ল্যাট রেট) ফি-ও যুক্ত হয়। এই ক্যালকুলেটরটি একটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সরকারিভাবে প্রকাশিত ফি-কাঠামো অনুসরণ করে তৈরি।

প্রধান খাতগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

  • রেজিস্ট্রেশন ফি — দলিল রেজিস্ট্রি করার মূল সরকারি ফি, সাধারণত দলিল মূল্যের ১%।
  • স্ট্যাম্প শুল্ক — দলিলের উপর প্রযোজ্য স্ট্যাম্প ডিউটি, সাধারণত ১.৫%।
  • স্থানীয় সরকার কর — স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য ধার্যকৃত কর, সাধারণত ৩%।
  • উৎসে কর (৫৩এইচ) — বিক্রেতার পক্ষ থেকে আগাম আয়কর কর্তন, যা এলাকার ধরন (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন) ভেদে ভিন্ন হয় এবং সবচেয়ে ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়।

সরকারি প্রকাশনার উদাহরণ (যাচাইয়ের জন্য):

একটি ইউনিয়ন পর্যায়ের মৌজায় ১০ শতক জমি, দলিল মূল্য ৩,০০,০০০ টাকা হলে, রেজিস্ট্রেশন ফি ৩,০০০ + স্ট্যাম্প শুল্ক ৪,৫০০ + স্থানীয় সরকার কর ৯,০০০ + উৎসে কর ৩,০০০ + অন্যান্য নির্দিষ্ট ফি (ই-ফি, এন ফি, এনএন ফি, হলফনামা, কোর্ট ফি) মিলিয়ে সর্বমোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২০,২১০ টাকা। উপরের ক্যালকুলেটরে ‘সরকারি উদাহরণ দিয়ে টেস্ট করুন’ বাটনে চাপ দিয়ে এই হিসাবটি নিজে যাচাই করে নিতে পারেন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. দলিলে লিখিত জমির মূল্য লিখুন।
  2. জমির অবস্থান (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন) নির্বাচন করুন — এতে ডিফল্ট হার সেট হয়ে যাবে।
  3. প্রয়োজনে হালনাগাদ হার নিজে বসিয়ে দিন, ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

জমি রেজিস্ট্রেশনে সাধারণত মোট খরচ কত শতাংশ হয়?
সব খাত মিলিয়ে সাধারণত দলিল মূল্যের প্রায় ৮%-১৫% পর্যন্ত খরচ হতে পারে, এলাকা ও উৎসে করের হারের উপর নির্ভর করে।
উৎসে কর (৫৩এইচ) কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ এই হারই সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয় এবং এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি তারতম্য দেখা যায়, তাই চূড়ান্ত হিসাবের আগে এটি অবশ্যই যাচাই করা উচিত।
দলিলের মূল্য কি বাজারমূল্যের সমান হতে হবে?
না, তবে দলিলে লিখিত মূল্য সরকার নির্ধারিত জমির সর্বনিম্ন মৌজা মূল্যের কম হতে পারবে না।
এই ক্যালকুলেটরের ফলাফল কি চূড়ান্ত?
না, এটি একটি আনুমানিক হিসাব। চূড়ান্ত খরচ নিশ্চিত করতে আপনার সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্র: সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, কুমারখালী, কুষ্টিয়া (বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)।